জুনেও জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধিতে সম্মত ওপেক প্লাস

আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কয়েকদিন ধরেই নিম্নমুখী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।

আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কয়েকদিন ধরেই নিম্নমুখী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এছাড়া সামনের দিনগুলোয় পণ্যটির চাহিদা কমার পূর্বাভাসও রয়েছে। এর পরও টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে ওপেক প্লাস। শনিবার ১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এক অনলাইন বৈঠকের পর পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত সংগঠনটি এমন ঘোষণা দেয়। খবর রয়টার্স।

ওপেক প্লাসের ঘোষণা অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারের মৌলিক চিত্র ভালো রয়েছে এবং মজুদ কম। এ কারণে আগামী মাসে উত্তোলন বাড়ানো হবে দৈনিক গড়ে ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল।

এদিকে এপ্রিলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম চার বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসে। ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের নিচে নেমে আসে পণ্যটির দাম। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ দরপতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে ওপেক প্লাসের মে মাসের জন্য প্রত্যাশার তুলনায় বেশি জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির ঘোষণা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোকে উত্তোলন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এটিও উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এপ্রিল, মে ও জুন মিলিয়ে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর মোট উত্তোলন বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে দৈনিক ৯ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে।

ইউবিএস বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, ‘ওপেক প্লাসের এ ঘোষণার কারণে সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের দাম আরো কমবে। দরপতনের পেছনে বাণিজ্য উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।’

কুয়েতের জ্বালানিমন্ত্রী বৈঠকে অংশ নেয়ার পর জানান, শনিবারের ওপেক প্লাস সভা ভবিষ্যতের উত্তোলন নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

রয়টার্সের গত সপ্তাহের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব তাদের মিত্র ও শিল্প কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, তারা আর উত্তোলন কমানোর মাধ্যমে বাজারের দাম সমর্থনে ইচ্ছুক নয়।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের হেলিমা ক্রফট বলেন, ‘এখন আবারো মূল ফোকাস হচ্ছে ‘কমপ্লায়েন্স’ বা প্রতিশ্রুতি মানা। কাজাখস্তান ও ইরাক ধারাবাহিকভাবে তাদের ক্ষতিপূরণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, রাশিয়াও কিছুটা পিছিয়ে আছে।’

যদিও কাজাখস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি জ্বালানি তেল উত্তোলনের বিষয়ে ওপেক প্লাসের স্বার্থের তুলনায় জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন। এপ্রিলে দেশটির উত্তোলন এর আগের মাসের তুলনায় ৩ শতাংশ কমলেও ওপেক প্লাসের নির্ধারিত কোটার তুলনায় তা বেশি ছিল।

ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো এখনো দৈনিক গড়ে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন কমিয়ে রেখেছে। পণ্যটির দাম সমর্থনে তাদের এমন উদ্যোগ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকার কথা রয়েছে।

আরও